Full width home advertisement

Travel the world

Climb the mountains

Post Page Advertisement [Top]












মনপূজারি,

ভেজা মেঘের আড়ালে লুকিয়ে কেমন আছো? মেঘের কান্নায় অভিস্নাত হয়ে ভালো লাগছে? জানি মেঘ তোমার পছন্দ! রোদ, নক্ষত্রের আলো মেঘ ভেদ করে তোমার জীবনে প্রবেশ করতে ব্যর্থ হয় বারবার। কিন্তু আমকে কেন মেঘের সাথে জড়ালে?

আমি ঝরে যেতে চেয়েছিলাম। ধীরে ধীরে অস্তাচলে নিমজ্জিত হচ্ছিলাম। আমার পায়ের তলায় ঝিমিয়ে আসছিল মাটি। যেন মাইল মাইল বালির ওপর সন্ধ্যা নামছে, ভাঙা পথে আবছা আঁধারে হাঁটছিলাম। মাঝে মাঝে হোঁচট খেয়ে পড়ে যাই।আমার স্বপ্ন-সাধ-আশা-আকাক্সক্ষা ফুরিয়ে গেছে।স্বপ্ন দেখতে ভুলে গিয়েছিলাম।

শত শত পূজারির অর্ঘ্য পায়ে ঠেলে দিয়েছি। মুখ ফিরিয়ে নিয়েছি শতবার। মাটির নেকাবে মুখ লুকাতে চেয়েছিলাম। মাটির শিথানে জ্বেলে দিয়েছিলাম ধূপকাঠি। ঠিক এমনি এক মুহূর্তে একটুকরো নক্ষত্র।তার মিষ্টি আলোর আভায় এক আয়াত জলের ওপর একটি সবুজ পাতা দুলে ওঠে।

আমি চোখ রাখলাম আকাশের নীলিমায়। ধূসর মেঘের আয়নায় মনপূজারির সেই কল্পিত মুখটা। যে পুরুষটিকে দীর্ঘদিন মনের ভেতর লালন করেছি। কত স্বপ্নের ছবি এঁকেছিলাম, মনের রঙে রাঙাতাম। সেই স্বপ্নপুরুষ, সেই কল্পিত মনপুরুষ আমার সামনে দাঁড়িয়ে। আমার মনপুরুষকে পেয়ে উদ্ভাসিত হয়ে উঠি।

তোমার স্বর্গীয় সেই মিষ্টি হাসিটা আমাকে এমনভাবে ঘায়েল করেছিল যে আমি ফিরে আসতে বাধ্য হলাম অন্ধ গুহা থেকে। প্রথম দেখার পর থেকে আমার ভেতর ঝড় উঠেছিল। তোমার মধ্যেও প্রচ- ঝড়। তুমি না বললেও আমি বুঝতে পারি।তারপরএকটু একটু করে বন্দি করলে ভালোবাসার ফ্রেমে।

জানি এসব তোমার ভোলা সম্ভব নয়। যদিও ভান করো,ভুলে আছো।মনে আছে, একদিন রাতে তুমি ঘণ্টাখানেক কথা বলেছিলে।কত কথা! কত স্বপ্ন!

লাবণ্যময় এক বিকেলে সিএনজিতে পাশাপাশি আমি আর তুমি। কথার ফাঁকে ফাঁকে যদিও খুব সচেতন ছিলে, যাতে ছোঁয়া না লাগে আমার সঙ্গে। তারপরও লোভ সামলাতে পারোনি। আমার হাত দুটো ধাক্কা লাগে ব্রেক কষার কারণে। তুমি ছল করে আমার হাতদুটো ধরে বললে, ‘দাও আমি মেসেজ করে দিই, ভালো হয়ে যাবে। বেশ লেগেছে। তুমি আলতো করে মেসেজকরে দিচ্ছ। আমিও ভালোলাগার তা-বে অভিস্নাত হই। আমার মনপুরুষের ছোঁয়ায় আমি কোথায় যেন হারিয়ে যাই। সেই স্বর্গীয় মুহূর্তটা বুঝে ওঠার আগেই শেষ হয়ে যায়।

নীরব রাতের সাথে কত কথা! একটা সময় মনে হলো তুমি আমর জীবনের আলো। তুমি আমার স্বর্গ। আর কোনো স্বর্গ চাই না। তোমর পূজার অর্ঘ্য আমার হৃদয়ঘটে তুলে নিলাম।বিবর্ণ তৃষ্ণার্ত ঠোঁট দুটো রাঙিয়ে দিলে ভালোবাসার রঙে। তোমার উত্তপ্ত ঠোঁটের উষ্ণ আলিঙ্গনে সিক্ত হলাম।

আচমকা ঝড় এসে সব তছনছ করে দিল। তোমার লোমশ বুক থেকে ফেলে দিল মাঝনদীতে। এখন আমি হাবুডুবু খাচ্ছি।তবুও আকাশ আমাকে হাতছানি দিয়ে ডাকে।অধরে তোমার আদরমাখা ঠোঁটের উষ্ণ ভাঁজ।হৃদয় গহনে মিঠে ঢেউয়ের দোলা। মনসমুদ্রে তপ্তঝড়ের প্রচ- দাপাদাপি।রক্তের স্পন্দন হৃদয়তটে। শেষ রাতে ফিরে এসেছে মৃতচাঁদ। ঘন চুম্বনবন্যায় জেগে উঠেছে মনপবনের নাও।

মনে পড়ে পূজারি? কোন এক স্বর্ণালি বিকেলে একখ- নক্ষত্র আমার হাতে দিয়ে বলেছিলে, ‘এই নাও। তোমাকে দিলাম। শুধু তোমাকে। শেষ সূর্যের আলোয় ঝলমল করে উঠল লাবণ্যময় বিকেলটা। বালুতটে রৌদ্রস্নাত অধরে চুম্বন মেলার সারি। চুপ করে দাঁড়ালাম আমি। তোমার উষ্ণ ভালোবাসার চোখ আমার চোখে বুকে ঠোঁটে। চুলগুলোতে গোধূলির বর্ণিল ছোঁয়াছুঁয়ি। চোখের কোণে বিস্মিত কৌতুক। মনের কোণে ধন্যবাদের ডালা। আমার যৌবন ফিরিয়ে এনেছ এজন্য। আবেগে আমার চোখ দুটো বোজা। তোমার হাতের ওপর আমার মুখটি তুলে ধরলে, খোঁপা দিলে খুলে, জড়িয়ে নিলে মুখে চোখে বুকে। স্ফীত বুকের কম্পনে টালমাটাল সমস্ত পৃথিবী। পরম সুখ! চোখ দুটো বন্ধ হয়ে এলে আদরের বন্যতায়।

এখনো স্বপ্ন দেখি মধ্যরাতে পূর্ণ চাঁদের তলে গহিন নিরালায় তোমার উষ্ণ ঠোঁটের ছোঁয়ায় সিক্ত করছো আমার ঠোঁট। দুটো হৃদয় জড়াজড়ি করে হারিয়ে যাই স্বর্গের খেলাঘরে বন্যতার উন্মুক্ত তরিতে।

যেদিন প্রথম তুমি আমর হৃদয় গর্ভে যন্ত্রণাবীজ রোপণ করেছিলে, আমি অবচেতন মনে বলেছিলাম, ‘হাসির ছলে ভালোবাসার বন্যতায় যন্ত্রণাবীজ বিদ্ধ করলাম। তবে সে যন্ত্রণা যে নরকযন্ত্রণা হবে সেটা জানা ছিল না।

বুঝতে পারিনি স্বর্গীয় যে মুখ চাঁদের মতো আলো ছড়াত,যার হাস্যোজ্জ্বল মুখের বিভায় গোলাপ পর্যন্ত লজ্জা পেত, যার ছোটাছুটির ভঙ্গিমায় হরিণ ও পাখি থেমে যেত, নক্ষত্র যার পূজিত সেই দেবতার হাতে ঈশ্বরী বেদনাহত হতে পারে? অসম্মানিত হতে পারে?

কেন এসেছিলে মনের আঙিনায়? কেন মুগ্ধ করেছিলে কথার ছলনায়? কেনই-বা ভালোবেসেছিলে আমায়? কেনই-বা হারিয়ে গেলে?

হৃদয়ের আয়না দুঃখ-বেদনার কুয়াশার অন্ধকারে ছেয়ে গেছে। নতুন দাগের মধ্যদিয়ে হৃদয়ের ক্ষতগুলোতে মলমের প্রলেপ লাগাচ্ছি। আর ফোড়া বিদারণের যন্ত্রের মাধ্যমে হৃদয়ে গেঁথে থাকা বর্শার ফলক টেনে তুলছি। ঠোঁটে শুধু আহ্ শব্দের গোঙানি।

সকালের প্রদীপ আর অট্টালিকার অলিন্দে বিকেলে পড়া সূর্যের আলোর মতো কয়েকটি কলজের টুকরো, যা দুচোখ বেয়ে আবেগের অশ্রু ঝরে পড়ছিল। কলজের আঁচড়ে বের হওয়া রক্তের দাগ আমার জীবনে লেগে আছে। তবুও স্বস্তি! কলম আমার সাথে আছে। কলমই আমার প্রকৃত বন্ধু, চোখ দিয়ে পানি ঝরছে, আর কলম দিয়ে বেরিয়ে পড়ছে বেদনাসিক্ত শব্দ!

আর এগোব না। অনেক কথা শেষ হবে না। তোমাকে একটু মিনতি করি, রাখবে? যদি জীবনঘুড়িটা কখনো পড়ে যায় তখন আমার কাছে ফিরে এসো। আমি জড়িয়ে রাখব স্বর্ণলতার মতন। ভালো থেকো, সুন্দর থেকো- এই শুভ কামনায় তোমার ফেলে দেওয়া  

-অতীত ঈশ্বরী

২৪.৬.১৫

4 comments:

  1. আবেগী গল্প হলেও ভাষা জ্ঞান অত‍্যন্ত উঁচু মাপের। publisher'র কিছু typing missing ছাড়া গল্পে আসল চরিত্র নিরবিচ্ছিন্ন ভাবে ফুটে উঠেছে।
    লেখক/লেখিকার প্রতি রইল আমার শ্রদ্ধা।

    ReplyDelete
  2. লাভলী তালুকদার পেশায় একজন শিক্ষক হলেও পর্দার আড়ালে একজন পতিতা

    ReplyDelete
  3. হায়রে নির্লজ্জ বেহায়া প্রানি লাভলী তালুকদার

    ReplyDelete

Bottom Ad [Post Page]

| Designed by Colorlib